মো. হারুন-উর-রশীদ,ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) থেকে; :
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব চড়ক পূজা ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের কিসমত লালপুর কালী মন্দির চত্বরে আয়োজন করা হয়। হারিয়ে যেতে বসা এই গ্রামীণ মেলা হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার কাঠের দণ্ডে বড়শিতে ঝুলে ঘূর্ণন করছেন একজন ব্যক্তি। ঢাকঢোল, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির মধ্যে তিনি ফুল, আবির, কলা, বাতাসা ও নকুলদানা ছিটিয়ে দেন দর্শকদের দিকে। আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। কাঠের খুঁটি ও দড়ির বিশেষ কাঠামোয় মানুষকে ঘুরানোই এই উৎসবের মূল আকর্ষণ।
চড়ক দেখতে দর্শনার্থীরা বলেন, “চড়ক উৎসবের কথা শুনে পরিবারের লোকজন নিয়ে এখানে এসেছি। এমন আয়োজন সত্যিই উপভোগ করার মতো। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা উচিৎ।
অংশগ্রহণকারী চড়ক, পরিতোষ সরকার বলেন, “প্রায় ৪ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চড়ক পূজায় অংশ নিচ্ছি। এটি করতে সাধনা লাগে। প্রতি বছর পিঠের ভিন্ন জায়গায় বড়শি লাগানো হয়। এটা করে আমি অনেক আনন্দ পাই, আমাকে দেখে সবাই আনন্দ পায়। এই কাজ করতে আমাকে ভালোই লাগে।”
চড়ক উৎসব কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য, সুকুমার রায় পাখি বলেন,“চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে চড়ক কালী পূজার আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী মেলা বসে এবং কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশ মোতায়েন ছিল।”
চড়ক উৎসব অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, ৫ নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন,“বিগত সরকার এই পুজা মন্ডবের জন্য তেমন বরাদ্দ রাখেনি। এবার আমরা মন্দিরের জন্য বিশেষ বরাদ্দের কথা ভাবছি। প্রতিবছর যাতে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সে বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এই চড়ক পূজা এখন শুধু একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি হয়ে উঠেছে সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।